চুল পড়ার আসল কথা
চুল কেন পড়ে, আর আসলে কী কাজ করে
সোজা ভাষায়, প্রমাণসহ। পড়তে ৪ মিনিট।
সমস্যাটা কী
ছেলেদের চুল পড়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ বংশগত। ডাক্তারি নাম অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া। শুরু হয় ধীরে: কারো সামনের দিক পিছিয়ে যায়, কারো তালু পাতলা হয়। অনেকের শুরু হয় ২০ বছরের আগেই।
এটা আপনার দোষ না, আর এর চিকিৎসা আছে।
বেঙ্গালুরুর ১,০০৫ জন পুরুষের এক গবেষণায় ৩০–৪৯ বছর বয়সী অর্ধেকের বেশি পুরুষের কোনো না কোনো মাত্রায় এই চুল পড়া পাওয়া গেছে।
সূত্র: Krupa Shankar et al., Int J Trichology, 2009
কারণ
মূল কারণ জিন। দাদার দিক থেকে আসতে পারে, নানার দিক থেকেও, তাই শুধু এক দিককে দোষ দেবেন না। শরীরের DHT হরমোন চুলের গোড়াকে ধীরে ধীরে ছোট করে দেয়। চুল প্রথমে পাতলা হয়, তারপর একসময় আর গজায় না।
মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব আর পুষ্টির ঘাটতি চুল পড়া বাড়াতে পারে, তবে বংশগত টাকের মূল কারণ এগুলো না।
যখন কারণ অন্য কিছু
হঠাৎ গোল গোল জায়গা থেকে চুল উঠে যাওয়া, কয়েক সপ্তাহে পুরো মাথা থেকে অনেক চুল পড়া, মাথার ত্বকে ঘা-চুলকানি-লালচে ভাব, কিংবা অসুখ বা নতুন ওষুধের পর চুল পড়া: এমন হলে আগে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখান। থাইরয়েড বা আয়রনের ঘাটতিতেও চুল পড়ে। মিনোক্সিডিল এসব ক্ষেত্রের জন্য না।
চিকিৎসা
সুখবর: বংশগত চুল পড়ার প্রমাণিত চিকিৎসা আছে। মিনোক্সিডিল ১৯৮০-র দশক থেকে ব্যবহার হচ্ছে, আর এর সাথে মাইক্রোনিডলিং যোগ করলে ফল আরও ভালো হতে পারে।
Minoxidil 5% (Kirkland) মাথার ত্বকে লাগানোর সল্যুশন। চুলের গোড়ায় রক্ত চলাচল বাড়ায় আর চুলের বাড়ার সময়টা লম্বা করে। আমেরিকায় পুরুষদের চুল গজানোর জন্য FDA-অনুমোদিত, তালুর চুল পড়ায় সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
আসল Kirkland চেনার উপায়০.৫ মিমি ডার্মা রোলার খুব ছোট সুই দিয়ে মাথার ত্বকে হালকা রোল করা। গবেষণায় মিনোক্সিডিলের সাথে মাইক্রোনিডলিং শুধু মিনোক্সিডিলের চেয়ে ভালো ফল দিয়েছে, যদিও বেশিরভাগ গবেষণা ক্লিনিকে। রোলার সহায়ক, আসল কাজ মিনোক্সিডিলের।
ব্যবহারের নিয়মসব ওষুধেরই সাইড ইফেক্ট থাকতে পারে
মিনোক্সিডিলে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় মাথার ত্বকে চুলকানি আর জ্বালা। শুরুর প্রথম ২ সপ্তাহে চুল একটু বেশি পড়তে পারে। বুকে ব্যথা, বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা, হঠাৎ ওজন বাড়া বা হাত-পা ফুলে গেলে সাথে সাথে বন্ধ করে ডাক্তার দেখান। হার্টের অসুখ থাকলে আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। বিস্তারিত প্রশ্ন ও উত্তরে।
যা অনেকে ভুল জানেন
যেসব কারণে চুল পড়ে না
-
টুপি আর ক্যাপ
স্বাভাবিক টুপিতে টাক হয় না। তবে অনেকদিন খুব টাইট করে টেনে বাঁধা চুল সমস্যা করতে পারে।
-
বাইকের হেলমেট
হেলমেট পরতেই থাকুন। এতে বংশগত টাক হয় না।
-
রোজ শ্যাম্পু করা
গোসলে যে চুল পড়ে, তা এমনিতেও পড়ত। দিনে ৫০–১০০টা চুল পড়া স্বাভাবিক।
-
তেল না দেওয়া
তেল চুল নরম রাখে, কিন্তু বংশগত চুল পড়া থামায় না।
-
ন্যাড়া করা
ন্যাড়া করলে চুল ঘন হয় না, শুধু সমান হয়ে গজায়। গোড়া যেমন ছিল তেমনই থাকে।
-
রোদ
রোদে মাথার ত্বক পোড়ে, টাক হয় না। তবে রোদে পোড়া ত্বকে রোলার চালাবেন না।
ব্যবহারের নিয়ম
প্রতিদিনের রুটিন, ৫ মিনিটে
-
1সকালে ১ মিলি
শুকনো মাথায় ড্রপারে ১ মিলি নিন। পাতলা জায়গায় চুল সরিয়ে সরাসরি ত্বকে লাগান, আঙুলে হালকা মালিশ করুন। তারপর হাত ধুয়ে নিন।
-
2রাতে আবার ১ মিলি
ঘুমানোর ২–৪ ঘণ্টা আগে লাগান, যাতে বালিশে লাগার আগে শুকিয়ে যায়। লাগানোর পর অন্তত ৪ ঘণ্টা মাথা ধোবেন না।
-
3সপ্তাহে একদিন রোলার
পরিষ্কার, শুকনো মাথায় হালকা চাপে প্রতিটি পাতলা জায়গায় লম্বালম্বি, আড়াআড়ি আর কোনাকুনি কয়েকবার রোল করুন। সেদিন মিনোক্সিডিল বাদ, ২৪ ঘণ্টা পর আবার শুরু।
-
4রোলার পরিষ্কার রাখুন
ব্যবহারের আগে-পরে অ্যালকোহলে ধুয়ে শুকিয়ে রাখুন। কারো সাথে শেয়ার করবেন না। সুই বাঁকা বা ভোঁতা লাগলে নতুন রোলার নিন। কাটা, ব্রণ বা জ্বালা থাকা জায়গায় রোল করবেন না।
একদিন ভুলে গেলে চিন্তা নেই। পরের ডোজ স্বাভাবিকভাবে নিন, ডাবল দেবেন না।
ধৈর্যের হিসাব
মাসে মাসে কী হবে
-
মাস ১
অভ্যাস হয়ে যায়
দিনে ২ বার, সপ্তাহে একদিন রোলার। প্রথম ২ সপ্তাহে চুল একটু বেশি পড়তে পারে, এটা সাময়িক। ২ সপ্তাহের বেশি চললে আমাদের জানান।
-
মাস ২–৩
চুল পড়া কমে
লেবেল অনুযায়ী ফল ২ মাসে দেখা দিতে পারে। চিরুনিতে চুল কম আসে, পাতলা জায়গায় নরম পশমের মতো নতুন চুল দেখা দেয়।
-
মাস ৪–৬
ছবিতে বোঝা যায়
নতুন চুল লম্বা আর গাঢ় হয়। প্রথম মাসের ছবির সাথে মেলালে পার্থক্য চোখে পড়ে। কারো কারো ৪ মাস বা তার বেশি লাগে।
-
মাস ৬–১২
ঘন হয়, ধরে রাখুন
নতুন চুল শক্ত আর ঘন হয়। ফল ধরে রাখতে ব্যবহার চালিয়ে যান। বন্ধ করলে ৩–৪ মাসে নতুন চুল চলে যায়।
সময়গুলো Kirkland-এর লেবেল আর ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা থেকে। ফল একেকজনের একেক রকম।

এখনই শুরু করার সময়
যত দেরি করবেন, তত বেশি চুল হারাবেন। আজ অর্ডার করুন, হাতে পেয়ে টাকা দিন।
সারা দেশে ফ্রি ডেলিভারি · ক্যাশ অন ডেলিভারি
